প্রাণঘাতী করোনাভাইরাস, গোটা বিশ্বকে বড়সড় ধাক্কা দিতে চলেছে, তা আগাম জানতেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প!

২০১৯ সালে সেপ্টেম্বরের শুরুতেই তিনি আসন্ন মহামারী সম্পর্কে আঁচ পেয়েছিলেন। এমনটিই দাবি করা হয়েছে ওই মার্কিন রিপোর্টে। যিনি এই দাবি করেছেন, তিনি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষস্থানীয় এক অর্থনীতিবিদ, যিনি হোয়াইট হাউজের সঙ্গে কাজও করেছেন।

ওই অর্থনীতিবিদের দাবি, ২০১৯ সালের সেপ্টেম্বর গোটা দুনিয়া যখন করোনাভাইরাসের ভয়াবহতা সম্পর্কে বিন্দুবিসর্গ জানতে পারেনি, সেই সময় কিন্তু ডোনাল্ড ট্রাম্পকে সতর্ক করা হয়েছিল। তাঁর প্রশাসনেরই শীর্ষ অর্থনীতিবিদদের একটি দল মার্কিন প্রেসিডেন্ট -কে মহামারী (কোভিড) ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকির বিষয়ে সতর্ক করেছিল। মহামারীর আশঙ্কার কথা উল্লেখ করে, ৪১ পাতার একটি রিপোর্টও হোয়াইট হাউজে জমা দিয়েছিলেন দেশের শীর্ষ অর্থনীতিবিদরা। সতর্কতামূলক পদক্ষেপ করার কথাও বলা হয়েছিল। কিন্তু, দুর্ভাগ্য এই, ট্রাম্প প্রশাসন অর্থনীতিবিদদের রিপোর্টটিকে অবজ্ঞা করেছিল। ডোনাল্ড ট্রাম্প নিজেও গুরুত্ব দেননি।

শুক্রবার (১৭ জুলাই) সিএনএন (CNN)-কে দেওয়া এক সাক্ষাত্‍‌কারে এই চাঞ্চল্যকর দাবি করেন মার্কিন অর্থনীতিবিদ টোডাস ফিলিপসন।

তিনি ট্রাম্প প্রশাসনের কাউন্সিল অফ ইকনমিক অ্যাডভাইজারস-এর ভারপ্রাপ্ত চেয়ারপার্সন হয়ে তিন বছর দায়িত্ব সামলেছেন। টোডাসের দাবি অনুযায়ী, ফ্লুয়ের মতো সংক্রমণ যে মহামারীর আকার নেবে, সেই বিপদ সম্পর্কে হোয়াইট হাউজকে তাঁর টিম তিন মাস আগেই সতর্ক করেছিল।

মার্কিন এই অর্থনীতিবিদ সাক্ষাত্‍‌কারে বলেন, মহামারীতে ৫ লক্ষ আমেরিকান যে মারা যেতে পারেন, ৪১ পাতার ওই রিপোর্ট সেই আশঙ্কাও ব্যক্ত করা হয়েছিল। তাঁরা এ-ও জানিয়েছিলেন, এই মহামারীর ধাক্কায় আমেরিকার অর্থনৈতিক ক্ষতির পরিমাণ দাঁড়াবে ৩.৭৯ ট্রিলিয়ন মার্কিন ডলার।

টোডাস ২০১৯ সালের সেপ্টেম্বরের শুরুতে যখন রিপোর্টটি হোয়াইট হাউজের সংশ্লিষ্ট আধিকারিকদের হাতে হস্তান্তর করেন, তখন চিনের উহানে সবে-সবে এক-দুটো করোনাভাইরাস কেস ধরা পড়েছে। তার তিন মাস পরে, ডিসেম্বরের মাঝামাঝি চিন নিজে এই সংক্রমণের কথা জানায়। আর বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা, হু ডিসেম্বরের শেষে এই সংক্রমণের কথা ঘোষণা করে।

শীর্ষ এই অর্থনীতিবিদ জোর দিয়ে বলেন, শুধু মার্কিন প্রেসিডেন্ট একা নন, ট্রাম্প প্রশাসনের শীর্ষ আধিকারিকেরাও এই রিপোর্ট সম্পর্কে অবহিত ছিলেন।

সেই রিপোর্টটিকে অবজ্ঞার কারণে আজ আমেরিকাকে তার ফল ভোগ করতে হচ্ছে। করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ও মৃত্যুতে বাকি দেশগুলিকে পিছনে ফেলে শীর্ষ স্থানে রয়েছে আমেরিকা। জানা যাচ্ছে, ১৯ জুলাইয়ের ভোররাত পর্যন্ত আমেরিকায় করোনাভাইরাসে আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে হয়েছে ৩৮ লক্ষ ২৩ হাজার ৬৫৩। মৃত্যু হয়েছে ১ লক্ষ ৪২ হাজার ৭৬৬ জনের। গত ২৪ ঘণ্টায় আক্রান্ত ৫৩ হাজার ৬৪১ জন। একদিনে মৃত্যু হয়েছে ৭০২ জনের। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে এখন অ্যাক্টিভ করোনা আক্রান্তের সংখ্যা ১৯ লক্ষ ৭ হাজার ৪৮২। সুস্থ হয়ে উঠেছেন ১৭ লক্ষ ৭৩ হাজার ৪০৫ জন।

তথ্য সুত্র- এই সময়

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *