টাটকা ফলের রস নিয়মিত খান? যদি না থাকে করে নিন অভ্যেস।  রোজ অন্তত এক গ্লাস করে খান অরেঞ্জ জুস বা অন্য কোনও ফলের রস। খানিকটা হলেও আপনি এড়াতে পারবেন ব্রেন স্ট্রোকের সম্ভাবনা। একটি সমীক্ষা জানাচ্ছে, রোজ ফলের রস যাঁরা খান, তাঁদের মস্তিষ্কে রক্ত জমাট বাঁধা বা ক্লট করার সম্ভাবনা চব্বিশ-পঁচিশ শতাংশ কমে যায়।

আমাদের দৈনন্দিন জীবনের ব্যস্ততায় দোকানে যে জুস কিনতে পাওয়া যায়, সেটাই আমরা কিনে থাকি।  কিন্তু কেনা জুসে ফলের রসের সঙ্গে এত পরিমানে সুগার শরীরে ঢোকে, যেটা উল্টে শরীরের ক্ষতি করে।  এই ধারণা থেকেই সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ব্রিটেনে জুস বিক্রির পরিমান বিপুল ভাবে কমে গেছে। কিন্তু নতুন এই ডাচ সমীক্ষা জানাচ্ছে, শরীরে চিনি একটু ঢুকলেও ফলের টাটকা রসের স্ট্রোক আটকানোর ভূমিকাকে মোটেই উপেক্ষা করা যায় না।

আরও পড়ুন – গরমে বেশি খান তরমুজ : শরীরে জলের চাহিদা মেটায়

নেদারল্যান্ডস-এর বিল্টভেনে ‘ ডাচ ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট ফর পাবলিক হেলথ এন্ড দি এনভায়রনমেন্ট’-এর বিজ্ঞানীরা গত পনেরো বছর ধরে ৩৫০০০ পুরুষ ও মহিলার উপরে এই সমীক্ষা চালিয়েছেন, যাঁদের বয়স ২০ থেকে ৭০ তাঁদের এই সমীক্ষা ও গবেষণার ফল বেরিয়েছে ‘ব্রিটিশ জার্নাল অফ নিউট্রিশন’ পত্রিকায়।  যেখানে বলা হচ্ছে, যাঁদের সপ্তাহে চার থেকে আট গ্লাস ফলের রস খাওয়ার অভ্যেস আছে, তাঁদের ব্রেন স্ট্রোকের সম্ভাবনা এক চতুর্থাংশ কমে।  আর যাঁরা এক দিন অন্তর জুস খান, তাঁদের ক্ষেত্রে কমে ২০ শতাংশ।  শুধু ব্রেন স্ট্রোক না, নিয়মিত ফলের রস পান করেন যাঁরা, তাঁদের হার্ট এর রোগের ঝুঁকি, ধমনীতে ব্লক হওয়ার সম্ভাবনাও অন্তত ১২/১৩ শতাংশ কমে যায়।

আরও পড়ুন – প্যাকেট ফুড খান ? সাবধানে থাকুন

ব্রেন স্ট্রোক গোটা পৃথিবীতেই একটা আতঙ্কের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। প্রতিদিনই অসঙ্খ লোক এই রোগে মারা যান, বাকিরা পঙ্গুত্বের শিকার হন।  এঁদের মধ্যে ৮৫ শতাংশ আক্রান্ত হন ইস্কিমিক স্ট্রোকে।  যখন একটা ক্লট ব্রেনে গিয়ে রক্ত সঞ্চালন বন্ধ করে দেয়। বাকিরা আক্রান্ত হন হেমারেজিক স্ট্রোকে, যখন মস্তিষ্কের মধ্যেই ফেটে যায় ব্লাড ভেসেল, আর শুরু হয়ে যায় প্রাণঘাতী রক্তক্ষরণ।

একাধিক পরীক্ষায় যাচাই করে বিজ্ঞানীরা বলছেন, প্রতিদিন ফলের জুসের থেকেও ভালো হয় যদি গোটা ফল খাওয়া যায়।  কারণ গোটা ফল ছাড়িয়ে বা কামড়ে খেলে বেশি উপকার পাওয়া যায় ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *