আপনি কি গাছকে ভালোবেসে বাড়ি বা ঘরের বিভিন্ন জায়গায় সবুজের ছোঁয়া রাখেন ? এটাতো খুবই ভালো । এতে আপনার পরিবারের সঙ্গে সঙ্গে পরিবেশ রক্ষাতেও সহায়তা করবে। পরিবেশ বিশেষজ্ঞদের মতে, জীববৈচিত্রের উন্নতির পাশাপাশি বিশুদ্ধ অক্সিজেনের জন্য ঘরে কিছু উদ্ভিদ রাখতে পারেন। তাঁরা পরামর্শ দিয়েছেন, সঠিক বায়ু বিশুদ্ধিকরণ উদ্ভিদগুলি বেছে নেওয়া যা আপনার বাসস্থানের বাতাসকে ডিটক্সাইয়েটে সহায়তা করতে পারে। এটার ফলে উদ্ভিদগুলি কেবল আপনার বাড়ির সৌন্দর্য বৃদ্ধি করে না, আপনি যে বায়ুতে শ্বাস নেন তা শোধন করতেও সহায়তা করে।

বৃক্ষ রোপণ, আমাদের একটি ছোট্ট উদ্যোগও পরিবেশের উন্নতির জন্য বড় আকার ধারণ করতে পারে। প্রকৃতি আমাদের যা দিয়েছে তার মূল্য সবারই বোঝা উচিত। এমন কিছু গাছ আছে যেগুলো আপনি আপনার বাড়িতে লাগিয়ে চারপাশের বাতাসকে বিশুদ্ধ করতে পারেন। এর দ্বারা সৌন্দর্য বৃদ্ধির পাশাপাশি স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন করতে পারবেন।

আসুন জেনে নেয়া যাক, এরকম কয়েকটি উদ্ভিদ সম্পর্কে-

১. বারবার্টন ডেইজি
আপনার বাড়িকে লাল, হলুদ, কমলা বা গোলাপী রঙে ভরিয়ে দেবার পাশাপাশি, বারবারটন ডেইজি বিষাক্ত ফর্মালডিহাইড, ট্রাইক্লোরিথিলিন এবং বেনজিনের কার্যকর শোধক, এগুলি রঙ, সিন্থেটিক, ফাইবার বিভিন্ন উপকরণে পাওয়া যায়।

যত্নের পরামর্শ: প্রচুর প্রাকৃতিক আলো সহ একটি ঘরে গাছটি রাখুন এবং মাটি আর্দ্র রাখুন ভালভাবে না হলে শুকিয়ে যাবে।

২. ইংলিশ আইভি
খুব তাড়াতাড়ি বেড়ে ওঠা এই বহুবর্ষজীবী লতা বায়ুবাহিত ফ্যাকাল কণাগুলি হ্রাস করতে বিশেষভাবে কার্যকর । এটি আপনার বাথরুম বা ঘরের বাতাসকে পরিষ্কার করে তোলে।

যত্নের পরামর্শ: আপনার ইংলিশ আইভিকে পর্যাপ্ত জল এবং দিনে চার ঘন্টা সরাসরি সূর্যের আলোর মধ্যে রাখুন। এটি আপনাকে পরিষ্কার, বিশুদ্ধ বাতাস সরবরাহ করবে।

৩. স্নেক প্ল্যান্ট
আপনার শোবার ঘরে এই উদ্ভিদটির উপস্থিতি খুবই ভালো রাতে ঘুমের জন্য। এই হলুদ-সবুজ রঙের গাছটি আপনাকে ঘুমের সময় আরও ভাল শ্বাস নিতে সহায়তা করে। ফর্মালডিহাইড, জাইলিন, বেনজিন, টলিউইন এবং ট্রাইক্লোরিথিলিন এ ভরা বিষাক্ত বায়ু শোধন করার জন্য এটি অন্যতম সেরা উদ্ভিদ।

যত্নের পরামর্শ: শিকড়গুলি আর্দ্র মাটিতে পচে যাওয়ার প্রবণতা থাকায়, বেশি জল যাতে না দেওয়া হয় সে বিষয়ে সচেতন থাকুন।

৪. খ্রিসানথিয়াম
আপনার রান্নাঘর বা বসার ঘরটি খ্রিসানথিয়াম দিয়ে উজ্জ্বল করুন। এর সুন্দর ফুলগুলি অ্যামোনিয়া এবং বেনজিন সহ প্রচুর পরিমাণে টক্সিন শোধন করতে সহায়তা করে, যা প্লাস্টিক, ডিটারজেন্ট এবং আঠায় পাওয়া যায়।

যত্নের পরামর্শ: এই গাছটি সূর্যের আলো পছন্দ করে, তাই এটিকে জানালার কাছাকাছি জায়গায় রাখুন।

5. স্পাইডার প্ল্যান্ট
আপনার ঘরের সৌন্দর্য বৃদ্ধিতে এই গাছটি সঠিক পছন্দ। এটি নিঃশব্দে কার্বন মনোক্সাইড এবং জাইলিন সহ টক্সিনের সাথে লড়াই করে, যা মুদ্রণ ও রাবার শিল্পগুলিতে ব্যবহৃত উপাদান।

যত্নের পরামর্শ: আপনি এই গাছ বাড়ীতে লাগিয়ে গাছপালার পুরো পরিবার গড়ে তুলতে পারেন যেগুলি তাদের নিজের যত্ন নিজেরাই নেবে সঙ্গে আপনারও।

যত্নের পরামর্শ: উদ্ভিদটিকে একটি রৌদ্রোকজ্জ্বল স্থানে রাখলে এটি ভালো থাকবে।

৭. ব্রড লেডি পাম
এটি এমন একটি উদ্ভিদ, যা বাতাসে অ্যামোনিয়ার স্তর হ্রাস করতে সহায়তা করে।

যত্ন পরামর্শ: আর্দ্রতা-প্রেমময়, এই গাছটি আপনার বাথরুমে খুব খুশি হবে।

৮. রেড-এজড ড্রাকেনা বা ড্রাগনের গাছ
বাতাসের মধ্যে থাকা ট্রাইক্লোরিথিলিন এবং জাইলিনের শোধক, ধীর গতিতে বেড়ে ওঠা এটি দূষণপ্রতিরোধকারী উদ্ভিদের মধ্যে অন্যত্বম । পাতাগুলির মধ্যে উজ্জ্বল লাল রঙের উপস্থিতি আপনার বাড়িতে একটি আলাদা রঙের মাত্রা যুক্ত করবে।

যত্নের পরামর্শ: এই উদ্ভিদটির উচ্চতা 8 ফিট পর্যন্ত বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে, তাই এটিকে উচু ছাদযুক্ত এবং উপযুক্ত সূর্যের আলো সহ একটি ঘরে রাখুন।

৯. ডুমুর ডাকা
এই উদ্ভিদগুলি বাতাসে উপস্থিত ফর্মালডিহাইড, জাইলিন এবং টলিউইনের মাত্রা কম করতে সহায়তা করে ।

যত্নের পরামর্শ: এগুলিকে উজ্জ্বল আলো থেকে দূরে, ছায়ার মধ্যে রাখুন। এটি একটি বিশ্বাসযোগ্য পরিশোধক হবে।

১০ চায়নিজ এভারগ্রিন
এই গ্রীষ্মমণ্ডলীয় উদ্ভিদটি ডিটারজেন্ট এবং প্রসাধনী সামগ্রীগুলিতে পাওয়া ফর্মালডিহাইড এবং বেনজিনের কার্যকর শোধক হিসাবে প্রমাণিত।

যত্নের পরামর্শ: এই উদ্ভিদটি আর্দ্র বা স্যাঁতস্যাঁতে জায়গা পছন্দ করে, তাই এটি আপনার বাথরুমে ভালো থাকবে ।

১১ মানি প্ল্যান্ট

এটি ঘরের মধ্যে মানানসই খুব সুন্দর একটা উদ্ভিদ । তেমন কোনো যত্ন ছাড়াই এটি বেঁচে থাকে। অনেকেই বিশ্বাস করেন যে, ঘরে এই উদ্ভিদটি রাখলে গৃহস্থের আর্থিক উন্নতি অবধারিত। তবে এর কোনো প্রমাণ না পেলেও আপনার ঘরের সৌন্দর্য বৃদ্ধিতে এর জুড়ি নেই। এছাড়াও ঘরের বাতাস শুদ্ধ রাখতে এই গাছ বিশেষ সহায়ক। এই গাছটি রাতে অক্সিজেন দেয় এবং বায়ুকে পরিশুদ্ধ করে।

১২ তুলসি

বাড়ীতে বা ঘরে তুলসি গাছ লাগানো শুধুমাত্র আমাদের সংস্কৃতিরই অংশ নয়, পাশাপাশি এর ঔষধি গুণাগুণও প্রচুর। মূলত এটি বাড়ির আঙ্গিনায় লাগানো হয়। এটি সামান্য সূর্যের আলোতেই বেড়ে উঠতে পারে। এটি মশা, পোকামাকড় দূর করে এবং বাতাসে অক্সিজেনের পরিমাণ বাড়িয়ে তোলে। বায়ু-পরিশোধনকারী হিসাবেও পরিচিত এই গাছটি। এছাড়া, এটি বাতাস থেকে অনেক ক্ষতিকারক রাসায়নিক এবং ব্যাকটেরিয়া শোধন করে।

গবেষণায় দেখা গেছে যে, আমাদের আশেপাশে প্রচুর বায়ু শোধনকারী উদ্ভিদ রয়েছে যা বায়ুবাহিত বিষ, ধুলোময়লা এবং জীবাণু থেকে আপনার বাড়িকে ডিটক্সাইফাই করতে পারে। এই জীবাণুগুলি বিভিন্ন গৃহস্থালীর পণ্য, উপকরণ এবং আসবাবের মধ্যে পাওয়া যায়।

আরও পড়ুন – কারি পাতা, চুলের যে কোন সমস্যায় খুবই কার্যকারি

আরও পড়ুন – বিভিন্ন রোগ নিরাময়ে থানকুনি পাতার ভূমিকা

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *