জুলাই মাস থেকে স্কুলগুলি খোলার পরিকল্পনা চলছে, যদিও ক্লাস সেভেন পর্যন্ত পড়ুয়াদের আসতে হবে না। সমস্ত রকম স্বাস্থ্যবিধি মেনে স্কুলে আসতে হবে ক্লাস এইট থেকে টুয়েলভ পর্যন্ত পড়ুয়াদের। মঙ্গলবার কেন্দ্রীয় সরকারের তরফ জানানো হয়েছে এমনটাই।

নির্দেশ অনুসারে, আপাতত জোন অনুযায়ী ধাপে ধাপে সমস্ত স্কুল খোলা হবে। যেমন প্রথমে গ্রিন জোনের স্কুলগুলি আগে খোলা হবে এরপর অরেঞ্জ জোন এবং সব থেকে শেষে রেড জোনের স্কুলগুলি খোলা হবে। তবে স্কুল খুললেও পড়ুয়াদের উপস্থিতির হার যেন দিনে ৩০ শতাংশের বেশি না হয় তা দেখতে হবে। অর্থাৎ ছাত্র-ছাত্রীদের ঘুরিয়ে ফিরিয়ে স্কুলে আসতে হবে।

স্কুল নির্দেশিকায় স্পষ্ট ভাবে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, নিচু ক্লাসের পড়ুয়াদের বাড়িতে থেকেই পড়াশোনা চালিয়ে যেতে হবে এখন কেননা তারা লকডাউনের নিয়মকানুন ও স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে পারবে না। পরবর্তী কালে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে, তখনই অভিভাবকরা তাঁদের ছেলে-মেয়েদের স্কুলে পাঠাতে পারবেন।

এখন যে পড়ুয়ারা স্কুলে আসবে, তারা সামাজিক দূরত্ববিধি মানছে কিনা, তা দেখতে হবে শিক্ষকদেরই। শিক্ষক-শিক্ষিকা দের মাস্ক ও গ্লাভস এর ব্যবহার অবশ্যই করতে হবে। প্রতিটা স্কুলে থাকতে হবে থার্মাল স্ক্রিনিংয়ের ব্যবস্থা। বেঞ্চগুলিতে দু’জনের বেশি পড়ুয়া বসতে পারবে না। স্কুলের নানা জায়গায় ব্যানার ও ফেস্টুন লাগিয়ে সচেতনতা প্রচার চলবে। সিসিটিভিতে নজর রাখতে হবে পরিস্থিতির উপর।

তবে এত দিন ধরে স্কুল বন্ধ থাকার কারণে পড়াশোনার যে ক্ষতি হয়েছে, সে জন্য সিলেবাসে পরিবর্তন করা হবে কিনা, সেই বিষয়ে এখনও কিছু নির্দেশিকা জানানো হয় নি।

কিছু নির্দেশিকা পড়ুয়াদের পাশাপাশি শিক্ষকদের জন্যও তৈরি করা হয়েছে, তা কয়েক দিন পরেই হয়ত ঘোষণা করবে সরকার। মানবসম্পদ উন্নয়ন মন্ত্রী রমেশ পোখরিয়াল বলেন, “শিক্ষক এবং পড়ুয়া উভয়েরই সুরক্ষার কথা ভেবে নির্দেশিকা মেনে চলতে হবে এখন। সামাজিক দূরত্ব হোক বা পরিচ্ছন্নতা — এ বিষয়ে কোনও আপস করা যাবে না।”

স্কুলগুলি খুললেও পঠনপাঠনের স্বাভাবিক গতি ফিরতে বেশ কিছুটা সময় লেগে যাবে, তা একেবারেই স্পষ্ট। মনে করা হচ্ছে, ক্লাস সেভেন পর্যন্ত পড়ুয়াদের এই গোটা বছরটিই বাড়িতে পড়াশোনা করতে হতে পারে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *