গোটা বিশ্বজুড়ে চলছে লকডাউন, বাদ যায়নি নাইজেরিয়াও। সেই লকডাউনের সময়ই, গত জুন মাসে নাইজেরিয়ার প্রত্যন্ত অঞ্চলে ত্রাণ পৌঁছতে গিয়েছিলেন পাঁচ জন স্বেচ্ছাসেবী কর্মী। তারপর থেকেই আর তাঁদের খোঁজ মিলছিল না। অবশেষে তাঁদের খোঁজ মিলল একটি ভিডিয়োতে!

সেই ভিডিয়োতে দেখা যাচ্ছে, ওই পাঁচ জন কর্মীকে হাঁটু মুড়ে রাখা হয়েছে। তাঁদের চোখ কাপড়ে বাঁধা। আর একের পর এক গুলি করে তাঁদের হত্যা করছে জঙ্গিরা। ঘটনাটি ঘটেছে নাইজেরিয়ায়।

এই হত্যার দায় এখনও কোনও জঙ্গিগোষ্ঠী স্বীকার না করলেও প্রশাসনের প্রাথমিক অনুমান এর পিছনে রয়েছে বোকো হারাম। গোটা নাইজেরিয়া বোকো হারাম জঙ্গিদের নামে কাঁপে। অবশ্য এহেন হত্যার দৃশ্য নতুন কিছু নয়। সিরিয়ায় এভাবেই একের পর এক সাংবাদিক, স্বেচ্ছাসেবী কর্মীদের হত্যা করত আইসিস জঙ্গিরা। সেই দৃশ্যই দেখা গেল নাইজেরিয়ায়। মনে করা হচ্ছে বড় অঙ্কের অর্থ আদায়ের উদ্দেশেই এই হত্যা ।

নাইজেরিয়ায় লকডাউন চলার সময় গত জুন মাসে গ্রামের গরিব মানুষকে ত্রাণ দিতে গিয়েছিলেন ওই পাঁচ জন কর্মী। তাঁরা গিয়েছিলেন নাইজেরিয়ার উত্তর পূর্ব অংশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে। লকডাউনে সামান্য খাবারটুকুও ছিল না ওই অঞ্চলের মানুষের কাছে। সেই কারণেই খাবার-ওষুধ নিয়ে তাঁদের কাছে পৌঁছতে চেয়েছিলেন তাঁরা। এরা প্রত্যেকেই ছিলেন নাইজেরিয়ার স্টেট ইমার্জেন্সি ম্যানেজমেন্ট এজেন্সি এবং আন্তর্জাতিক চারটি স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের হয়ে কাজ করা কর্মী। এরপর থেকেই নিখোঁজ ছিলেন তাঁরা।

অনেক খোঁজ চালিয়েও তাঁদের পাওয়া যাচ্ছিল না। অবশেষে বুধবার একটি ভিডিয়োতে তাঁদের খোঁজ পাওয়া যায়। ভিডিয়োতে দেখা গেছে  তাঁদের চোখ বাঁধা লাল কাপড়ে, সকলেই বসে আছেন হাঁটু গেড়ে। আর পিছনে দাঁড়িয়ে সামরিক পোশাকের জঙ্গিরা। এরপরই একে-একে গুলি করে হত্যা করা হয় তাঁদের।

ভিডিয়োটি সামনে আসতেই নিন্দায় ফেটে পড়েছে গোটা বিশ্ব। নাইজেরিয়ার প্রেসিডেন্ট মহম্মাদু বুহারি শোকজ্ঞাপন করে বোকো হারামকে শিক্ষা দেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন, কিন্তু তাতে মোটেই নিশ্চিন্ত হতে পারছেন না নাইজেরিয়ার বাসিন্দারা। সকলেরই বক্তব্য, এভাবে আর কদিন? নির্দোষ মানুষদের মেরে ফেলা জঙ্গিদের আস্ফালন আর কতদিন সহ্য করতে হবে?

 

তথ্যসূত্রঃ এই সময়

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *