গোটা বিশ্বে মহামারীর রুপ ধারণ করেছে করোনাভাইরাস। সারা পৃথিবীর বিজ্ঞানীরা কয়েক মাস ধরে অক্লান্ত চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন করোনার প্রতিষেধক তৈরি করার জন্য। কিন্তু এখনও পর্যন্ত কোনও ওষুধ বা প্রতিষেধক বাজারে আসেনি। এই পরিস্থিতিতে বাবা রামদেবের সংস্থা ‘পতঞ্জলি’ মঙ্গলবারই ঘোষণা করে যে, তাঁরা বাজারে আনতে চলেছে করোনার প্রতিষেধক আয়ুর্বেদিক ওষুধ।

এই দাবি নিয়ে মঙ্গলবার হইচই পড়ে যায়। তাঁর দাবির সত্যতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে বিভিন্ন গণমাধ্যমে। যে ওষুধের দিকে তাকিয়ে আছে গোটা বিশ্ব, নিরলস গবেষণা চলছে বিশ্ববিখ্যাত ল্যাবরেটরিগুলিতে, সেই ওষুধই নাকি আবিষ্কার করে ফেলেছেন যোগগুরু রামদেব !

বাবা রামদেবের এই দাবির পরই নড়েচড়ে বসেছে কেন্দ্র। তাঁর ওষুধের সত্যতা দাবি সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য চেয়ে পাঠিয়েছে সরকার। শুধু তাই নয়, এই ধরনের দাবির কোনও পরীক্ষালব্ধ প্রমাণ না থাকায় ওষুধটির প্রচার, বিজ্ঞাপন, বিপণন– সবই বন্ধ করার নির্দেশ দিয়েছে সরকার। কেন্দ্রের আয়ুষ মন্ত্রকের তরফে বলা হয়েছে, পতঞ্জলির কাছে ওষুধ ও তার কম্পোজিশন নিয়ে সমস্ত তথ্য চেয়ে পাঠানো হয়েছে। জানানো হয়েছে, সরকারি পরীক্ষা ছাড়া এভাবে ওষুধের বিজ্ঞাপন ড্রাগস ও ম্যাজিক রেমেডিস অ্যাক্ট, ১৯৫৪-এর আওতায় পড়বে। সরকারি পরীক্ষার আগে এ বিষয়ে সমস্ত বিজ্ঞাপন বন্ধ রাখতে হবে।’

দিনকয়েক আগেই পতঞ্জলি সংস্থার ম্যানেজিং ডিরেক্টর ও সিইও আচার্য বালকৃষ্ণ বলেন, ‘করোনাভাইরাস সংক্রমণ ছড়ানোর পরই তাঁরা একদল বিজ্ঞানীকে নিয়োগ করেছিলেন এই ভাইরাসের সঙ্গে লড়াই করার উপাদান খুঁজে বার করতে। করোনা পজিটিভ রোগীদের উপর এই ওষুধের পরীক্ষামূলক প্রয়োগ করা হয়, যাতে আমরা ১০০ শতাংশ ইতিবাচক ফলাফল পেয়েছি।’ এখানেই শেষ নয়, তাঁদের ওষুধের গুণাগুণ নিয়ে বলতে গিয়ে বালাকৃষ্ণ জানিয়েছিলেন, তাঁদের এই ওষুধে ৫ থেকে ১৪ দিনের মধ্যে সুস্থ হয়ে উঠেছেন করোনা রোগীরা, এবং তাঁদের পরবর্তী করোনা পরীক্ষার রিপোর্টও নেগেটিভ এসেছে।

‘করোনিল ও শ্বাসারি’ নামে ওই ওষুধটি দেশের ২৮০ জন করোনা রোগীর মধ্যে প্রয়োগ করে দেখা হয়েছে বলে দাবি করেছেন বাবা রামদেব। মাত্র ৫৪৫ টাকা দামের ওই ওষুধের মাত্র এক সপ্তাহের মধ্যেই সারা দেশে পাওয়া যাবে। অবশ্য কয়েক দিন আগেই বাবা রামদেব জানিয়েছিলেন, অশ্বগন্ধা, গিলোই ও তুলসি সমৃদ্ধ করোনিল খেলে করোনায় আক্রান্ত রোগী ১০০ শতাংশ সুস্থ হয়ে উঠবেন। সেই জীবনদায়ী ওষুধই মঙ্গলবার প্রকাশ করেন তিনি। শুধু চিকিৎসাই নয়, করোনার সম্পূর্ণ সমাধানের ক্ষমতা ভারতীয় আয়ুর্বেদের আছে বলে রামদেবের দাবি। যদিও সেই ওষুধের কোনও পরীক্ষাই হয়নি সরকারি স্তরে। তাই একপ্রকার সমালোচনার মুখেই পতঞ্জলির বিরুদ্ধে কড়া অবস্থান নিল কেন্দ্র।

One thought on “পতঞ্জলির ‘করোনিল’ প্রকাশের কিছুক্ষন পরই, এর বিজ্ঞাপন বন্ধের নির্দেশ কেন্দ্রের”

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *