মঙ্গলবার, নেপালকে অনুসরণ করে এবার নতুন একটি রাজনৈতিক মানচিত্র প্রকাশ করেছেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান ৷ সেই মানচিত্রে জম্মু- কাশ্মীর, লাদাখ এবং গুজরাতের জুনাগড়কে নিজেদের অংশ বলে দাবি করেছে ইমরান সরকার ৷ নতুন মানচিত্র প্রকাশের  দিনটিকে পাকিস্তানের ইতিহাসে সবথেকে বড় ঐতিহাসিক দিন বলে অভিহিত করেছেন ইমরান খান ৷ যদিও পাকিস্তানের এই পদক্ষেপকে ‘রাজনৈতিক পাগলামো’ বলে কড়া প্রতিক্রিয়া দিয়েছে ভারতের বিদেশমন্ত্রক ৷

কিছুদিন আগেই কেপি শর্মা অলি সরকার তিনটি ভারতীয় অঞ্চল নেপালের অন্তর্ভুক্ত করে, নিজেদের নতুন মানচিত্র প্রকাশ করে। এ বার নেপালের পথ অনুসরণ করে ইমরান সরকার গোটা কাশ্মীরকে পাকিস্তানের ম্যাপের সঙ্গে জুড়ে সংঘাতের পথে পা বাড়াল।

শুধু কাশ্মীর নয়, গুজরাতের জুনাগঢ়কেও পাকিস্তানের নয়া মানচিত্রে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। ভারতীয় সংবিধানের অনুচ্ছেদ ৩৭০ বাতিল করে, কাশ্মীরের বিশেষ মর্যাদা প্রত্যাহারের প্রথম বর্ষপূর্তি বুধবার, ৫ অগস্ট। অযোধ্যায় রাম মন্দিরের ভূমি পূজনের জন্য আবার ওই দিনটিই বেছে নিয়েছে কেন্দ্রের নরেন্দ্র মোদী সরকার। সেই বর্ষপূর্তির আগের দিনেই নয়া মানচিত্র প্রকাশ করে, বিরোধ বাড়াল পাকিস্তান।

ইমরান খান নিজে হাতে মঙ্গলবার বিতর্কিত মানচিত্রের আনুষ্ঠানিক প্রকাশ করেন। ইমরান বলেন, ‘আজই আমরা পাকিস্তানের নতুন ম্যাপ বিশ্বের সামনে আনছি। পাকিস্তানের মন্ত্রিসভা ছাড়াও বিরোধী দল এমনকী কাশ্মীরি নেতৃত্বেরও এতে সমর্থন রয়েছে। নয়া মানচিত্র পাকিস্তানের মানুষের আশা ও বিশ্বাসকে সমর্থন করে।’

ভারতের বিদেশমন্ত্রকের মুখপাত্র অনুরাগ শ্রীবাস্তব বলেছেন, ‘জম্মু-কাশ্মীর, লাদাখের মতো আমাদের কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল এবং গুজরাতের অংশকে নিজেদের বলে এই ভিত্তিহীন দাবি রাজনৈতিক পাগলামো ছাড়া আর কিছুই নয়৷ এই হাস্যকর দাবিগুলির না আইনি বৈধতা আছে, না আন্তর্জাতিক স্তরে এসমস্ত দাবির কোনও বিশ্বাসযোগ্যতা রয়েছে৷’

অনুরাগ শ্রীবাস্তব আরও দাবি করেন, ‘সীমান্তের ওপার থেকে সন্ত্রাসকে মদত দিয়ে নিজেদের সীমানা বৃদ্ধির যে অপচেষ্টা পাকিস্তান করে চলেছে, এটা তাকেই স্বীকৃতি দিল৷’

ইমরান খান সরকার ও পাকিস্তানের সাধারণ মানুষকে অভিনন্দন জানিয়ে পাক বিদেশমন্ত্রী শাহ মেহমুদ কুরেশি বলেন, নয়া মানচিত্রে কাশ্মীর এবং তার জনগণের উপর ভারতের ‘অবৈধ দাবি’কে চ্যালেঞ্জ জানানো হয়েছে। কুরেশির কথায়, ‘এই মানচিত্র নিয়ে

পাক বিদেশমন্ত্রী জানান, দেশের নয়া মানচিত্রে কাশ্মীর, আজাদ কাশ্মীর, গিলগিট বালতিস্তানকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এই অঞ্চলগুলিকে বিতর্কিত হিসাবে বিবেচনা করা হয়। পাকিস্তানের জনগণ দীর্ঘ দিন ধরে এর বিহিত চেয়ে এসেছে।

এ দিন সাংবাদিক বৈঠকে পাক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান দাবি করেন, দেশের সব রাজনৈতিক দলই এই নতুন মানচিত্রকে সমর্থন করেছে৷ তিনি বলেন, ‘গত বছর ৫ অগাস্ট ভারত সরকার যে বেআইনি পদক্ষেপ করেছিল, তারই প্রতিবাদে এই মানচিত্র৷ এই প্রথমবার গোটা বিশ্বের সামনে আমাদের দেশের সরকার নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করে দিল৷’

পাকিস্তানের সবথেকে ঘনিষ্ঠ বন্ধু চিনও মনে করে, ভারতের আগ্রাসী মনোভাব নিয়ন্ত্রণ করা উচিত এবং তাদের উত্থান দমানো প্রয়োজন৷ চিনের সেই উদ্দেশ্যকে স্বার্থক করতেই পাকিস্তান এমন পদক্ষেপ করল বলে মনে করা হচ্ছে৷ পাশাপাশি, এই পদক্ষেপের মাধ্যমে দেশে নিজের জনপ্রিয়তা এবং পায়ের তলার মাটি শক্ত করার চেষ্টা করলেন ইমরান খান, এমনও মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা৷

পাক বিদেশমন্ত্রীর দাবি, সিয়াচেন বরাবরই পাকিস্তানের অন্তর্ভুক্ত। পাক বিদেশমন্ত্রীর বক্তব্য, কাশ্মীরি নেতারা নয়া মানচিত্রকে সমর্থন করেছেন। কুরেশির কথায়, ‘এই মানচিত্রের মধ্য দিয়ে ভারতের কাছে একটি বার্তা পাঠানো হয়েছে। কাশ্মীরের নিরস্ত্র শহিদ যুবাদের পাশে রয়েছে পাকিস্তান। এই মানচিত্র আমাদের লক্ষ্যের প্রতিনিধিত্ব করছে।’

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *