করোনা বিপর্যয়ের মধ্যেই ভারতে পঙ্গপালের হানা। আফ্রিকা, ইরান, পাকিস্তান হয়ে ভারতে প্রবেশ করেছে এই পঙ্গপালের দল।

রাষ্ট্রসঙ্ঘ সতর্ক করেছে, এরা নাকি করোনার থেকেও ভয়ঙ্কর। দেশে দুর্ভিক্ষ ও অর্থনৈতিক দুর্দশার কারণ হতে পারে এই পঙ্গপাল। ভারত ছাড়াও অন্তত ৬০টি দেশ পঙ্গপালের আক্রমণে ক্ষতিগ্রস্ত।

প্রতিদিন দেশের নতুন নতুন এলাকায় আক্রমণ করছে এই পতঙ্গ বাহিনী। মধ্যপ্রদেশ এবং রাজস্থানে ফসল নষ্ট করে এবার তারা ঢুকে পড়েছে মহারাষ্ট্রে।

পঙ্গপাল বিভিন্ন পতঙ্গ বা ঘাস ফড়িঙের ঝাঁক। এরা খাবারের জন্য দিনের বেলায় ঝাঁকে ঝাঁকে উড়ে বেড়ায়। এক এক ঝাঁকে কয়েক লাখ থেকে কয়েক হাজার কোটি পতঙ্গ থাকতে পারে। তারা যেখানে একবার আক্রমণ করে, সেখানে খাদ্য শেষ না হওয়া পর্যন্ত অন্য কোথাও যায় না। ফলে একবার কোনও এলাকায় পঙ্গপাল আক্রমণ করলে সেখানকার ফসলের দফারফা হয়ে যায়। ইতিহাস বলছে পঙ্গপালের আক্রমণের পরই দেখা দিয়েছে দুর্ভিক্ষ।

আরও পড়ুন – আমাজন, অষ্ট্রেলিয়ার পর এবার ভারতবর্ষের উত্তরাখণ্ডের বনভূমিতে বিধ্বংসী দাবানল

পঙ্গপালের যাত্রাপথ

সুদূর পূর্ব আফ্রিকা থেকে যাত্রা শুরু করে ইথিওপিয়া, সোমালিয়া, কেনিয়া-সহ আফ্রিকার বেশি কিছু দেশে হানা দেয় এই  পঙ্গপাল । তারপর সৌদি আরব হয়ে পাকিস্তান। ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয় পাকিস্তানে।

ভারতে আক্রমন

জানা যাচ্ছে ২৬ বছর পর ভারতে হানা দিয়েছে এই পঙ্গপাল । রাজস্থান থেকে মধ্য প্রদেশ বিপর্যস্ত এদের হানায়। ড্রোন ও বিমানে রাসায়নিক প্রয়োগ করে পঙ্গপাল মারার পরিকল্পনা করছে রাজস্থান সরকার। রাজস্থানের ১৮টি এবং মধ্য প্রদেশের ১২ জেলার জমি কার্যত মরুভূমিতে পরিণত হয়েছে। উত্তর প্রদেশ ও মহারাষ্ট্রেও তাণ্ডব চালাচ্ছে পঙ্গপাল। সতর্ক করা হয়েছে গুজরাট এবং পঞ্জাবের চাষীদের।

করোনার থেকেও ভয়ঙ্কর এই পঙ্গপাল

একটি পূর্ণ বয়স্ক পতঙ্গ নিজের ওজনের সমপরিমান খাবার খেতে পারে একদিনে। অর্থাৎ দিনে প্রায় ২ গ্রাম শস্য খেতে পারে। এক বর্গ কিলোমিটারে ৪ কোটি থেকে ৮কোটি পতঙ্গ থাকে একসঙ্গে। যদি দিনে ১৩০ থেকে ১৫০ কিলোমিটার জুড়ে তাণ্ডব চালায় তাহলে ৩৫ হাজার মানুষের এক বছরের খাবার কেড়ে নিতে পারে বলে জানাচ্ছে রাষ্ট্রসঙ্ঘের ফুড অ্যান্ড অ্যাগ্রিকালচার অর্গানাইজেশন।

এই পতঙ্গ বেঁচে থাকতে পারে ৩ থেকে ৪ মাস পর্যন্ত। মাইল এর পর মাইল জমির ফসল খেতে পারে। একই সঙ্গে করে বংশবিস্তারও। রাষ্ট্রসঙ্ঘ এক নির্দেশিকায় একে ‘হর্ন অব আফ্রিকা’ বলে উল্লেখ করা হয়। বেশি বৃষ্টিপাত হলে পঙ্গপালের বংশবিস্তারও ব্যাপক পরিমাণে হয়। ভারতে বর্ষাও সন্নিকটে। তাই আফ্রিকার মত পরিস্থিতি ভারতে হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

আরও পড়ুন – লাদাখে চীনের সন্দেহজনক গতিবিধি, আশঙ্কা কূটনৈতিক মহলে

ভারতে কতটা ক্ষতি করতে পারে 

লকডাউনে জেরে স্তব্ধ দেশের উত্পাদন। রুটিরুজি নেই মানুষের। এমতাবস্থায় কৃষিপ্রধান ভারতে পঙ্গপালের হানা বিপর্যয় ঘনিয়ে আসতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা। রাষ্ট্রসঙ্ঘ জানাচ্ছে, পঙ্গপালের হানায় ২০০৩ থেকে ২০০৫ সাল পর্যন্ত পশ্চিম আফ্রিকায় ২৫০ কোটি মার্কিন ডলার ফসল ক্ষতি হয়েছে। কৃষিতে ব্যাপক ক্ষতি হলে ভারতের অর্থনীতি ভেঙে পড়বে বলে সতর্ক করেছে রাষ্ট্রসঙ্ঘ।

আরও পড়ুন – উপগ্রহ চিত্র অনুযায়ী, লাদাখের কাছেই এয়ারবেস বানাচ্ছে চিন

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *