আমরা এমন অনেক খাবার খাই, যা বেশ স্বাস্থ্যকর  বলে মনে করি।  আসলে কিন্তু সেগুলো থেকে আপনার মৃত্যুও হতে পারে । জানেন কি সেগুলো কী কী খাবার? এমন কতগুলি খাবার আছে, যাতে এতটাই বিষ থাকে, যা বেশ ভাল করে ধুয়ে অথবা ফুটিয়ে না নিলে তা শরীরের জন্য মারাত্মক হতে পারে।  জেনে নিন সেগুলো কী কী?

আপেল

রোজ একটা করে আপেল খাওয়ার অভ্যাস থাকলে আপনাকে ডাক্তারের কাছে যেতে হবে না।  কিন্তু জানেন কি, এই আপেলের গায়ে মোম লাগানো থাকে? বাজারে বিক্রির আগে, আপেলগুলোকে বেশি চকচকে করে তুলতে ও ক্রেতাদের আকৃষ্ট করতে মোমের প্রলেপ দেওয়া হয়, তাই সবসময় আপেল খাওয়ার আগে ভালো করে জল দিয়ে ঘষে ঘষে ধুয়ে নিতে হবে।  তাছাড়া আপেলের বীজ সায়ানাইডের মতোই বিষাক্ত।  অনেকগুলো একসাথে খেয়ে ফেললে মৃত্যু পর্যন্ত ঘটতে পারে আপনার।  তাই আপেল খাওয়ার সময় একটু সাবধান হওয়াই ভালো।

আমণ্ড

আপনি আমণ্ড খান তো ? তাহলে ভালো করে সেঁকে খান।  হ্যাঁ, নইলে এতে থাকা টক্সিন আপনার শরীরে ভালোর বদলে মন্দই করবে।  এগুলি প্যাক করার সময় যে কেমিক্যাল ব্যবহার করা হয় তা সায়ানায়েডের মতোই বিষাক্ত! তাই সাবধান তো হতেই হবে।

মধু

মধু খাবার আগে জেনে নিন সেটা আদৌ প্রসেসড করা কি না? না জানলে খাবেন না।  আনপাস্তুরাইজ়ড মধুতে পাইরোলাইজ়িডিন উপক্ষার থাকে।  যা ক্যানসার বাধাতে পারে, লিভারের সিরোসিসও বাধাতে পারে অনায়াসেই।  কাজেই এই দুই বিপদ এড়াতে মধু খাওয়ার সময়ে নিশ্চিত হয়ে খান সেটা প্রসেসড মধু কি না।

রাজমা

রাজমা কখনওই কাঁচা খাওয়া ঠিক না।  আর রান্না করার আগে অবশ্যই জলে ভিজিয়ে রাখতে হবে।  তারপর খুবই ভালো করে রান্না করুন, তাতে অন্তত বিপদ থেকে রেহাই পাওয়া সম্ভব। কারণ রাজমায় থাকা লেকটিন, ফাইটো হেমাগ্লুটেনিন আপনাকে পেট খারাপ, বমি বমি ভাব, ডায়ারিয়া ইত্যাদিতে বিপদের দিকে ঠেলে দেয়।

টোম্যাটো

রান্না হোক বা স্যালাড, প্রচুর পরিমাণে টোম্যাটো অনেকেই পছন্দ করেন।  কিন্তু সাবধান! কোনওভাবেই টোম্যাটোর পাতা যেন না থাকে।  কারণ টোম্যাটোর পাতায় আছে গ্লাইকোক্যালয়েড নামের বিষাক্ত যৌগ।  এই যৌগ আপনার পেশীতে টান, পেট খারাপ, অস্থিরতা ইত্যাদি সমস্যা অনেকটাই বাড়িয়ে দিতে পারে।

আলু

আলুর পাতা এবং কাণ্ডে থাকে সোলানাইন নামক বিষাক্ত যৌগ ।  জানি আমরা এগুলোর একটাও খাই না।  তবে আলুতে অনেক সময় বেশ কিছু সাদা সাদা অংশ বেরোতে দেখা যায়, তা থেকে অনেকেই বলেন আবারও আলু গাছ জন্মাতে পারে।  তাই সেই অংশ গুলো ফেলে দেবেন।  নয় তো বিপদ তো দোরগোড়ায় থাকবেই।

জায়ফল

অনেকেই রান্নাতে জায়ফল দেন।  সেই জায়ফল কখনও কাঁচা বা গুঁড়ো করে খেয়ে দেখতে যাবেন না।  খাবারে দারুণ গন্ধ, মিষ্টি-মিষ্টি স্বাদ আনে যে ফল, তা আপনার বমি, পেট খারাপ ইত্যাদির কারন হতেই পারে যদি কাঁচা খান এটি।

মাশরুম

খুব ভালোবাসেন মাশরুম? সঠিক মাশরুম আপনাকে বেছে নিতে হবে। যে কোন মাশরুম তা বলে খেয়ে ফেলবেন না ।  ‘অ্যামানিটা ভিরোসা’ প্রজাতির মাশরুম আপনাকে নিশ্চিত মৃত্যুর দিকে ঠেলে দিতে পারে।  যদিও মাশরুমে যথেষ্ট পরিমাণে প্রোটিন থাকে, সেটা আমরা জানি। হাজারেরও বেশি প্রজাতির মাশরুম থাকতে পারে সারা পৃথিবী জুড়ে।  কিন্তু ঠিকঠাক প্রসেসড যে মাশরুম বাজারে বিক্রি হয়, সেটাই কিনবেন।  কিডনি থেকে পেটের সমস্যার দিকে অযথা ছুটে যাবেন না।

আরও পড়ুন – মাংসের থেকেও বেশি খাদ্যগুণ পাওয়া যায় এই নিরামিষ খাবারগুলিতে

কাঁচা মাংস

মাংস ভালো করে রান্না করে না খেলে মারাত্মক বিপদ হতে পারে আপনার।  শুধু মাংসই নয়, কাঁচা অবস্থায় যে কোনও সি ফুড হোক বা পোল্ট্রির খাবার তাতে থাকে সালমোনেলার মতো ব্যাকটিরিয়া।  এগুলো আপনাকে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দেয়।  তাই চেষ্টা করুন, খুব ভালো করে রান্না করে তবেই এই জিনিসগুলো খেতে।

পাফার মাছ

জাপানে এই খাবারটি ডেলিকেসি ফুডের আওতায় পড়ে।  কিন্তু এতে প্যারালাইসিস হওয়ার সম্ভাবনা আছে ঠিক করে রান্না করে না খেলে।  এই মাছ রান্না করার আগে, সঠিকভাবে পরিষ্কার করে রান্না করতে হবে।  এর শরীরের ভিতরের অংশগুলো বেশ বিষাক্ত, তাই খাওয়ার আগে অবশ্যই আপনাকে সচেতন হতে হবে।

চিনা বাদাম

চিনে বাদাম আপনারা খান, কিন্তু এতে আপনাদের অ্যালার্জি নেই তো? হ্যাঁ, সেটা জেনে রাখা ভালো। কারণ এই বাদামে যাঁদের অ্যালার্জি আছে, তাঁরা বেশি মাত্রায় খেলে শিরা ধমনী ব্লক হয়ে যেতে পারে।  অজ্ঞান হয়ে যেতে পারেন আপনি।  তাই একটু বুঝে খেতে চেষ্টা করুন।

ব্লু বেরি

প্রচুর পরিমানে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট পাওয়া যায় ব্লুবেরিতে ।  কিন্তু ফলন বাড়ানোর জন্য এতে প্রচুর পরিমাণে কীটনাশক দেওয়া হয় । প্রায় ৫২ রকমের কীটনাশক ব্যবহার করা ব্লুবেরি চাষের সময়, তাই আপনি যদি ঠিক করে পরিষ্কার করে ধুয়ে না খান, তাহলেই বিপদ।

হটডগ

যে কোনও জাঙ্কফুডই আসলে বাচ্চাদের ক্যালোরির জন্য সমস্যা করে।  কোলেসেটরলের সমস্যা করে। হটডগ তো বেশ পেট ভর্তি করা লোভনীয়ও খাবার ভেবে অনেক মা বাবাই তাঁর বাচ্চাকে দেন।  এতে থাকা বিভিন্ন রাসায়নিক বাচ্চাদের একেবারে মোহিত করে দেয়।  তারই সাথে ওবেসিটি জাতীয় সমস্যা সহজেই গ্রাস করে বাচ্চাদের।    ধীরেধীরে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দেয়।  তাই হটডগ থেকে দূরে রাখুন বাচ্চাদের।

অতএব এই খাবারগুলো খাওয়ার সময়ে অবশ্যই সাবধানতা ও সচেতনতা বজায় রাখুন।

আরও পড়ুন – ধনেপাতার উপকারিতা-সুস্থ থাকতে মেনে চলুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *