বাগদাদে ড্রোন হামলায় ইরানের শীর্ষস্থানীয় সেনা আধিকারিকের মৃত্যুর ঘটনায় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পে-সহ আরও একাধিক ব্যক্তির বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করার সাথে সাথে ইন্টারপোলের সাহায্যও চাইল ইরান৷

ইরানের সঙ্গে পরমাণু চুক্তি প্রত্যাহারের পর থেকেই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে উত্তপ্ত পরিস্থিতি তৈরি হয় ৷ এই বছরের জানুয়ারিতে বাগদাদে ড্রোন হামলায় মৃত্যু হয় ইরানের সর্বোচ্চ সেনা আধিকারিক কাসেম সোলেইমানির ৷ ওই হামলায় ডোনাল্ড ট্রাম্প–সহ আরও ৩০ জনের জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে ৷

তবে ইরানের এই দাবির পরও ইন্টারপোলের পক্ষ থেকে কোনও প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায় নি ৷ ইরানের সংবাদ সুত্রে জানা গিয়েছে, তেহরানের পক্ষ থেকে ট্রাম্প-সহ একাধিক ব্যক্তির বিরুদ্ধে ‘রেড নোটিস’ জারির অনুরোধ করা হয়েছে। তবে এই রেড নোটিস কোনও দেশকে সন্দেহভাজন ব্যক্তিকে গ্রেফতার বা প্রত্যর্পণে বাধ্য করতে পারে না। তবে চাইলে সরকার সন্দেহভাজনদের গতিবিধি সীমিত করতে পারে।

ইরানের পরমাণু কর্মসূচি ও তার জেরে চাপতে থাকা আর্থিক নিষেধাজ্ঞা নিয়ে টানাপড়েন ও অশান্তি দীর্ঘদিন ধরেই চলছে। ওয়াশিংটনের অভিযোগ, অসামরিক পরমাণু কর্মসূচির আড়ালে আসলে পরমাণু অস্ত্র বানাচ্ছে ইরান। ডোনাল্ড ট্রাম্প মার্কিন প্রেসিডেন্ট পদে আসার পর পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়। তেহরানের সঙ্গে ট্রাম্পের তিক্ততা এমনই পর্যায়ে পৌঁছেছে যে এবার মার্কিন প্রেসিডেন্টের নামে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করল ইরান ।

জানুয়ারিতে বাগদাদ বিমানবন্দরের কাছে মার্কিন ড্রোন হানায় মৃত্যু হয় ইরানের সেনা জেনারেল কাসেম সোলেমানির। একই সঙ্গে প্রাণ হারান ইরাকের পার্লামেন্টের ডেপুটি চিফ আবু মেহদি অল মুহান্দিস-ও। সোলেমানির হত্যার প্রতিশোধ নিতে মধ্যরাতে ইরাকে অবস্থিত মার্কিন সেনাবাহিনীর দুই ঘাঁটিতে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায় তেহরান। তাতে কমপক্ষে ৮০ জন ‘মার্কিন সেনা নিহত হয়েছে বলে দাবি করেন ইরানের শীর্ষনেতা আয়াতোল্লা আলি খামেনেই। প্রসঙ্গত, সোলেমনি হত্যার পর পরই প্রকাশ্যে ইরানকে হুমকি দিয়েছিলেন ট্রাম্প। সোলেমানি হত্যার বদলা হিসেবে কোনও মার্কিন নাগরিক বা প্রতিষ্ঠানের উপর হামলা হলে ইরানের আরও ৫২ জায়গায় আক্রমণ হবে বলে জানিয়ে ছিলেন তিনি।

জানুয়ারির ওই হামলার পিছনে ট্রাম্প-সহ ৩০ জন জড়িত বলে দাবি করেছেন তেহরানের এক আইনজীবী। গ্রেফতারি পরোয়ানার ভিত্তিতে ইন্টারপোলের কাছেও নোটিশ পাঠিয়েছে ইরান। তবে ফ্রান্সের ইন্টারপোলের সদর দফতর থেকে কোনও মন্তব্য আসেনি। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বা হোয়াইট হাউজের তরফে এই নিয়ে কোনও প্রতিক্রিয়া দেওয়া হয়নি।

তথ্যসূত্রঃ এই সময়

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *