• রাষ্ট্রপতি ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, চীন ও ভারতের মধ্যে সীমান্ত বিরোধ নিয়ে মধ্যস্থতার জন্য আমেরিকা প্রস্তুত
  • কাশ্মীর ইস্যু নিয়ে এর আগেও ভারত-পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় আমেরিকা সহযোগিতা করতে চেয়েছিল, যা ভারত প্রত্যাখ্যান করেছিল।

বুধবার, লাদাখ এবং সিকিম নিয়ন্ত্রন রেখায় চলা ভারত-চীন সীমান্ত বিরোধের মধ্যস্থতার প্রস্তাব দিয়েছেন আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রক এই প্রস্তাবের বিষয়ে গত বৃহস্পতিবার নিজের অবস্থান পরিষ্কার করেছে। মন্ত্রক জানিয়েছে, প্রতিবেশীর দেশের সাথে এই সমস্যার শান্তিপূর্ণ সমাধানের উপায় খোঁজার কূটনৈতিক পর্যায়ে চেষ্টা করা হচ্ছে।

ট্রাম্প আরও জানিয়েছেন, “ভারত ও চীনের মধ্যে একটি বড় বিরোধ রয়েছে।” উভয় দেশই জনসংখ্যা এবং সেনাবাহিনীর নিরিখে যথেষ্ট শক্তিশালী । তিনি , ভারত ও চীন উভয় দেশেরই বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে খুশি নন বলে জানিয়েছেন।

ট্রাম্প এর আগে ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যকার কাশ্মীর ইস্যু নিয়ে মধ্যস্থতার কথা বলেছিল, যে বিষয়টি ভারত প্রত্যাখ্যান করেছিল এবং জানিয়েছিল যে এটি তাদের অভ্যন্তরীণ বিষয়।

ভারত ও চীনের বেশ কয়েকটি কূটনৈতিক ব্যবস্থা রয়েছে।একদিন 

এর আগে চীন জানিয়েছিল যে ভারতের সীমান্ত স্থিতিশীল এবং নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। এ বিষয়ে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রকের মুখপাত্র অনুরাগ শ্রীবাস্তব বলেছিলেন – উভয় পক্ষই উত্তেজনা হ্রাসে সচেষ্ট, তবে ভারত তার সার্বভৌমত্ব রক্ষ্যায় কোনও আপস করবে না। ভারত ও চীনের বর্তমান পরিস্থিতি শান্তিপূর্ণভাবে মোকাবিলা করা যেতে পারে।

শ্রীবাস্তব আরও বলেছেন যে ভারতীয় সেনা প্রকৃত নিয়ন্ত্রণ রেখা লঙ্ঘন করেনি। চীনের সীমান্তবর্তী অঞ্চলে শান্তি বজায় রাখতে ভারত বদ্ধপরিকর। আমাদের সেনাবাহিনী বিশ্বস্তভাবে আমাদের নির্দেশ অনুসরণ করে। আমরা ভারতের সার্বভৌমত্ব এবং জাতীয় সুরক্ষা বজায় রাখতে বদ্ধপরিকর।

চীনের পর ভারতও সৈন্য সংখ্যা বাড়িয়েছিল

লাদাখের গালভান নিয়ন্ত্রন রেখার কাছে সম্প্রতি চীন ও ভারতের মধ্যে উত্তেজনা বেড়েছে। এলএসি-র কাছে বিভিন্ন সেক্টরে চীন প্রায় ৫ হাজার সেনাবাহিনী মোতায়েন করেছে। প্রতিবেশী দেশের এই পদক্ষেপের পরে, ভারতও এই অঞ্চলগুলিতে সেনাবাহিনী বৃদ্ধি করতে শুরু করেছে।

এই মাসেই দুই জায়গায় তিনবার সংঘর্ষ হয়েছে। গত সপ্তাহে, উভয় দেশের সেনাবাহিনীর কমান্ডাররা বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করে সমাধান করার চেষ্টা করেছেন।

ডোকলামের পর সবচেয়ে বড় সংঘাত

  • লাদাখে ভারতীয় ও চীন সেনাবাহিনী যদি মুখোমুখি হয়, তবে এটি ২০১৭ সালের ডোকলাম বিবাদের পরে সবচেয়ে বড় ঘটনা হবে। সংবাদ সূত্রে খবর, ভারত পেনগং, তসো লেক এবং গ্যালভান অঞ্চলে সেনা বাড়িয়েছে। চীন এই দুই অঞ্চলে দুই হাজার থেকে আড়াই হাজার সৈন্য মোতায়েন করা হয়েছে। এর আগে থেকেই চীন লাদাখের অনেক অঞ্চল নিজেদের বলে দাবি করে আসছে।
  • ভারত-চীন সীমান্তের ডোকলাম এলাকায় ১৬ জুন থেকে ২৮ আগস্ট ২০১৭ এ দুই দেশের মধ্যে সংঘর্ষ হয়েছিল। বিষয়টি  খুবই উত্তেজনাপূর্ণ হয়ে গিয়েছিল। বছর শেষে উভয় দেশই সেনা প্রত্যাহারের বিষয়ে একমত হয়েছিল।

আরও পড়ুন – ভারত-চিন সীমান্ত সমঝোতার মধ্যস্থতা করতে চেয়ে টুইট ডোনাল্ড ট্রাম্পের

ভারত ও চীনের মধ্যে সাম্প্রতিক বিরোধ

1) ৫ মে, স্থান- পূর্ব লাদাখের পেনগং হ্রদ

প্রায় ২০০ ইন্দো-চীন সেনা নিয়ন্ত্রন রেখা বরাবর হ্রদের উত্তর দিকের এলাকায় মুখোমুখি হয়েছিল। চীনা সেনাদের উপস্থিতিতে ভারত আপত্তি জানায়। সারা রাত ধরেই পরিস্থিতি গুরুতর ছিল। পরের দিন, উভয় পক্ষের সৈন্যদের মধ্যে সংঘাত হয়েছিল। পরে উভয় পক্ষের শীর্ষ কর্মকর্তাদের মধ্যে আলোচনা করে বিষয়টি সমাধান করা হয়।

আরও পড়ুন – লাদাখে চীনের সন্দেহজনক গতিবিধি, আশঙ্কা কূটনৈতিক মহলে

২) ৯ মে, স্থান – ১৬ হাজার ফুট উচ্চতায় উত্তর সিকিমের নাকুলা সেক্টর

ভারত-চীনের ১৫০ জন সৈন্য মুখোমুখি হয়েছিল। যদিও সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে কিছু প্রকাশ করা হয়নি। তবে দ্য হিন্দু-র এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এখানে ৯ ই মে একটি সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। টহলদারী চলাকালীন সেনারা সামনাসামনি একে অপরকে ঘুষি মারে আক্রমণ করে। এই সংঘর্ষে প্রায় ১০ জন সেনা আহত হয়েছে। পরে শীর্ষ কতৃপক্ষের হস্তক্ষেপে সংঘর্ষ বন্ধ হয়ে যায়।

৩) ৯ ই মে, স্থান- লাদাখ
ওই দিনই উত্তর সিকিমে ভারত-চীন সেনাবাহিনী সংঘর্ষ চলাকালীন, চীনের হেলিকপ্টার লাদাখের প্রকৃত নিয়ন্ত্রণ রেখায় লঙ্ঘন করে বলে জানা যায়। এর প্রতিক্রিয়ায় ভারত তার সুখোই যুদ্ধবিমানের একটি বহর পাঠিয়েছিল বিষয়টি অনুসন্ধানের জন্য। সংবাদমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক কালে এই প্রথমবার মতো চীন কর্তৃক এই ধরনের পদক্ষেপের প্রতিক্রিয়া হিসাবে ভারত তার যুদ্ধবিমান বিমানটি সীমান্তে প্রেরণ করেছিল।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *