ভারত-চিন সংঘাত পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে শুক্রবার লাদাখে যাচ্ছেন কেন্দ্রীয় প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং । তাঁর সঙ্গে থাকছেন ভারতের সেনাপ্রধান এমএম নারাভানে । সেখানে, লাদাখের নিরাপত্তা পরিস্থিতি পর্যালোচনা করা ছাড়াও ভারত-চিন সামরিক পর্যায়ে আলোচনার অগ্রগতি নিয়ে তাঁরা কথা বলবেন।

চিনের সঙ্গে সংঘাতের আবহে ভারতীয় বাহিনীর সামরিক প্রস্তুতি দেখতে অবশ্য কয়েকদিন আগেই লাদাখে গিয়েছিলেন সেনাপ্রধান। এই প্রথম সেখানে যাচ্ছেন রাজনাথ সিং ভারত-চিন সীমান্তে যুদ্ধের আবহ খতিয়ে দেখতে । চিনের লাল ফৌজের যুদ্ধ তত্‍পরতা শুরু করায়, ভারতও সামরিক ভাবে তৈরি। ভারতের তিন বাহিনীই এখানে মোতায়েন রয়েছে। ২৪ ঘণ্টা সজাগ রয়েছে ভারতীয় সেনা। চিনের সাথে যে কোনও ধরনের পরিস্থিতির মোকাবিলায় তৈরি তাঁরা। গত সপ্তাহে লাদাখে গিয়ে সেনার সেই প্রস্তুতিই দেখে এসেছেন সেনাপ্রধান। ‌

সীমান্ত সমস্যা মেটাতে দু-দেশের সামরিক পর্যায়ে আলোচনাও চলছে । মঙ্গলবার ৩০ শে জুন ভারতের চুশুলে তৃতীয় কোর কম্যান্ডার বৈঠকের পরেও কোনও সমাধান সূত্র মেলেনি। বর্তমানে প্যাংগং লেক ও গলওয়ান উপত্যকায় বেশ কয়েক কিলোমিটার ভিতরে ঘাঁটি গেড়ে বসে রয়েছে চিনের লাল ফৌজ । মঙ্গলবার বৈঠকের পরেই চিনের লাল ফৌজ সরে যাবে, এমনটাও আশা করেনি কেউ। কার্যক্ষেত্রে তা হয়ওনি। তবে, কূটনীতিকরা মনে করেন, এক্ষুনি সমাধান সূত্র না বেরোলেও যুদ্ধের আবহে দু-দেশের সামরিক স্তরে এই আলোচনা চালিয়ে যাওয়া ইতিবাচক ।

জানা যাচ্ছে, চুশুলের এই বৈঠকে ভারতের প্রতিনিধিত্ব করেন লেফটেন্যান্ট জেনারেল হরেন্দ্র সিং। অন্য দিকে, চিনের পক্ষে আলোচনায় যোগ দেন দক্ষিণ জিংজিয়াং মিলিটারি ডিস্ট্রিক্টের চিফ মেজর জেনারেল লিউ লিন। এর আগেও ২২ জুন দু-পক্ষের বৈঠক হয়েছিল।

বৈঠকে চিনের থেকে কোনও প্রতিশ্রুতি আদায় করতে না পারলেও, প্রকৃত নিয়ন্ত্রণরেখায় উত্তেজনা কমাতে দু-পক্ষই সমান উৎসাহী বলে ভারতীয় সেনার তরফে জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে বলা হয়, দ্বিপাক্ষিক চুক্তি মেনে প্রকৃত নিয়ন্ত্রণরেখা বরাবর শান্তি ও স্থিতি ফিরিয়ে আনতে ভারত ও চিনের মধ্যে ভবিষ্যতে সামরিক ও কূটনৈতিক স্তরে আরও বেশ কিছু বৈঠক হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

তবে জানা যাছে, গলওয়ান উপত্যকা থেকে হট স্প্রিং পর্যন্ত ১৪, ১৫ ও ১৭ পয়েন্টে দু-পক্ষই সেনা নিষ্ক্রিয় করতে সম্মত হয়েছে। সেইসঙ্গে ভারতীয় ভূখণ্ড থেকে কয়েক’শো মিটার দূরে সরে যাবে চিনের ফৌজ।

আরও পড়ুন – বয়কট ! ভারতের হাইওয়ে প্রকল্পগুলিতে আর থাকছে না চীন

চিন সেনার ভারতীয় ভূখণ্ড দখলের বিষয়টি যদিও প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী স্বীকার করেননি। তবে, প্রাক্তন বিদেশসচিব নিরুপমা মেনন রাও রীতিমতো তথ্যপ্রমাণ তুলে দেখিয়েছেন কী ভাবে চিন অনুপ্রবেশ করেছে। উপগ্রহের চিত্র অনুসারে দেখা যাচ্ছে, ভারত-চিন সীমারেখার অনেক ভিতরে অনুপ্রবেশ করে এসেছে চিনের সেনা। শুধু তাই নয় ভারতের ভূখণ্ডে অনুপ্রবেশ করে বাঙ্কার, সেনা ছাউনি, রসদ ও অস্ত্র গোলাবারুদ রাখার স্থায়ী কাঠামোও তৈরি করেছে লাল ফৌজ।

আরও পড়ুন – চীনকে বয়কট, ৪ জি টেন্ডার বাতিল বিএসএনএল-এর

গলওয়ান উপত্যকার ওই ১৪ পয়েন্টেই ১৫ জুন ভারত চিনের সাথে ভয়ানক সংঘাতে জড়িয়ে পড়ে। যার ফলে এক সেনা অফিসার-সহ ২০ ভারতীয় সেনা শহিদ হন। জানা গিয়েছে বেশ কয়েক জন চিনা সৈন্যও মারা গিয়েছেন। যদিও নিহতের প্রকৃত সংখ্যাটা গোপনই রেখেছে বেজিং। মার্কিন মিডিয়ার দাবি, কমপক্ষে ৩৫ চিনা সেনা গলওয়ান সংঘাতে নিহত হয়েছেন, যা অস্বীকার করে চিন। বেজিংয়ের দাবি, ভারতের তুলনায় তাদের কম সেনা মরেছে। ১৫ জুন রাতের ওই সংঘাতের পরেই লাদাখ এখন রণভূমি।

তথ্যসূত্রঃ এই সময়

ছবি – দ্য উইক

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *