প্রত্যেক নারীর কাছে তার চুল হচ্ছে তার অলঙ্কার। তাঁরা প্রত্যেকেই চায় তাঁদের চুলগুলি থাকুক খুশকি মুক্ত, লম্বা, ঘন এবং কালো। বর্তমান জীবনযাত্রার কারণে অতিরিক্ত চুল পড়া, খুশকি, অল্প বয়সে চুলে পাক ধরা ইত্যাদি বেশ কয়েকটি সমস্যা দেখা দিয়েছে।

এগুলি ঘটে রোজকার পরিবেশ দূষণ, ধুলো-ময়লা, সঠিক খাবার গ্রহণের অভাব, অতিরিক্ত প্রসাধনী সামগ্রীর ব্যবহার, ভিটামিনের অভাব ইত্যাদি নানা কারণে। তাই, চুল-এর মধ্যে বাজারের কেমিক্যাল জাতীয় পণ্য ব্যবহার না করে প্রাকৃতিক উপায়ে চুলের যত্ন নেওয়া প্রয়োজন। সেই কারণেই, আমরা আপনাকে চুলের যত্নের জন্য প্রাকৃতিক ঘরোয়া উপাদান ব্যবহার করার পরামর্শ দিই। আর, চুলের যেকোনও সমস্যার ক্ষেত্রে সমাধানের প্রাকৃতিক উপাদান মধ্যে একটি হল ‘কারি পাতা’।

অনেকেই মাথার ত্বকের সমস্যা, খুশকি, চুল পড়া এবং চুল রুক্ষ হয়ে যাওয়ার সমস্যায় ভোগেন। কারি পাতা হল এমন একটি প্রাকৃতিক উপাদান যা, গোড়া থেকে এই জাতীয় সমস্যাগুলির চিকিৎসা করতে পারে। কারি পাতা অ্যান্টি-অক্সিডেন্টস, বিটা ক্যারোটিন, অ্যামিনো অ্যাসিড, প্রোটিন ইত্যাদি সমৃদ্ধ।

আরও পড়ুন – তুলসী, হিন্দু ধর্মের পাশাপাশি চিকিৎসা শাস্ত্রেও এর গুরুত্ব অপরিসীম

কারি পাতা ব্যবহারের উপকারিতা সম্পর্কে এখানে দেওয়া হল –

 

  • কারি পাতা হল অন্যতম সেরা প্রাকৃতিক উপাদান যা, অকালে চুল পেকে যাওয়া রোধ করে। অল্প বয়সে চুল পাকে সাধারণত, সঠিক খাবার গ্রহণের অভাব, অতিরিক্ত মানসিক চাপ, অ্যালকোহল গ্রহণ অথবা বংশগত কারণে। কারি পাতায় থাকা ভিটামিন বি, যা অকালে চুল পেকে যাওয়া প্রতিরোধ করে এবং চুলে পুষ্টি ও আসল রঙ পুনরুদ্ধারে সহায়তা করে। কারি পাতা ব্যবহারে, চুলের গোড়া শক্তিশালী এবং উজ্জ্বল হয়।

 

  • নিয়মিত কারি পাতার ব্যবহার, চুলের বৃদ্ধিতে সহায়তা করে। কয়েকটি কারি পাতা রোদে শুকিয়ে গুঁড়ো করে নিন এবং এক টেবিল চামচ দইয়ের সঙ্গে এটি মেশান। চুলের ডগা থেকে গোড়া অবধি এই মিশ্রণটি লাগান।

 

  • বর্তমানে চুল পড়া একটি সাধারণ সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। কারি পাতা চুল পড়া বন্ধ করে এবং চুল পাতলা হওয়াও রোধ করে। কিছু কারি পাতা বেটে দুধের সাথে মিশিয়ে ঘন পেস্ট তৈরি করুন। এটি চুলে ভালভাবে লাগান এবং এক-দুই ঘণ্টা অপেক্ষা করে ভাল করে ধুয়ে ফেলুন। এটি নিয়মিত অনুসরণ করলে উপকার পেতে পারেন।

 

  • খুশকি রোধে কারি পাতায় থাকা অ্যান্টি-ব্যাকটেরিয়াল, অ্যান্টি-ফাঙ্গাল এবং অ্যান্টি-ইনফ্ল্যামেটরি বৈশিষ্ট্যগুলি মাথার ত্বক-কে ভাল রাখে। এগুলি মাথার ত্বক-কে খুশকি এবং সংক্রমণের থেকে রক্ষা করে। মাথার ত্বকের সংক্রমণ রুখতে, কারি পাতার ব্যবহার করুন। দইয়ের সাথে কারি পাতা মিশিয়ে পেস্ট প্রস্তুত করুন এবং এটি ভালভাবে চুলে লাগিয়ে আধা ঘণ্টা রেখে, ভাল করে ধুয়ে ফেলুন। সপ্তাহে অন্তত একবার করুন। এতে মেথির বীজও যুক্ত করতে পারেন।

 

  • কারি পাতা চুলের হেয়ার টনিক হিসাবে ভাল কাজ করে কারণ এটি মাথার ত্বককে ময়শ্চারাইজ এবং পুষ্ট রাখতে সহায়তা করে। এক মুঠো সতেজ কারি পাতার সাথে ২-৩ টেবিল চামচ নারকেল তেল দিয়ে এটিকে ফুটিয়ে নিন। কিছুক্ষণ পরে মিশ্রণটি ঠাণ্ডা হয়ে গেলে এটি মাথায় লাগান। কারি পাতায় থাকা ভিটামিন বি-৬ চুলের গোড়া শক্তিশালী বা মজবুত করতে সহায়তা করে।

 

  •  বিভিন্ন রাসায়নিক উপাদান ব্যবহারের কারণে চুলের গোড়া ক্ষতিগ্রস্থ এবং শুকিয়ে যেতে পারে। কারি পাতায় থাকা প্রয়োজনীয় পুষ্টি উপাদান, চুলের ক্ষতিগ্রস্থ গোড়া মেরামত করতে সহায়তা করে। কিছু কারি পাতা কুচি করে নিন এবং এটি আপনার পছন্দসই ক্যারিয়ার তেলের সঙ্গে মিশিয়ে ভালভাবে মাথায় ম্যাসাজ করুন। এটি মাথার ত্বকের ক্ষতিগ্রস্থ গোড়া মেরামত করতে সহায়তা করবে।

 

  • এটি আপনার প্রতিদিনের খাবারে অন্তর্ভুক্ত করুন। কারি পাতা সিদ্ধ জল খাওয়া অন্যান্য স্বাস্থ্য সুবিধার পাশাপাশি আপনার চুলকেও সুরক্ষিত করে। এটি পুদিনা পাতার সাথে কাঁচাও খাওয়া যেতে পারে।

আরও পড়ুন – বিভিন্ন রোগ নিরাময়ে থানকুনি পাতার ভূমিকা

স্বীকারক্তি : উপরোক্ত টিপস এবং পরামর্শগুলি সাধারণ তথ্যের জন্য। কোনও ডাক্তার বা চিকিত্সক পেশাদারের পরামর্শ হিসাবে এগুলি গ্রহণ করবেন না। অসুস্থতা বা সংক্রমণের ক্ষেত্রে, ডাক্তারের সাথে পরামর্শ করুন।

তথ্যসূত্রঃ নারীবার্তা

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *