চিনের অনুদান নিয়ে কংগ্রেস এবং বিজেপির মধ্যে তরজা অব্যহত। কিছুদিন আগে রাজীব গান্ধী ফাউন্ডেশনে চিনের অনুদান নেওয়ার জন্য কংগ্রেসকে তোপ দেগেছিল বিজেপি। এবার সেই রেশ ধরে কেন্দ্রীয় শাসক দলকে পালটা আক্রমণ করল কংগ্রেস। এ ক্ষেত্রে তাদের লক্ষ্য ‘প্রধানমন্ত্রী কেয়ার ফান্ড’। কংগ্রেসের দাবি করেছে, এই তহবিলে কয়েক কোটি টাকা ঢেলেছে চিনের বিভিন্ন সংস্থা। চিনের প্রতি নরেন্দ্র মোদীর ‘দুর্বলতা’ আছে বলেও মন্তব্য করেছে তারা। এছাড়াও জাতীয় নিরাপত্তা নিয়ে কংগ্রেসের তরফে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে।

কংগ্রেসের এই অভিযোগের পর বিজেপির তরফে এখনও কোন প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। তবে বিজেপি দলের তরফে জানানো হয়েছে, ‘করোনা পরিস্থিতি মোকাবিলার লক্ষ্যে পিএম কেয়ার ফান্ড তৈরি করা হয়েছে। এই ধরনের তহবিলে আর্থিক অনুদান এবং রাজীব গান্ধী ফাউন্ডেশনের মতো বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে অনুদান এক জিনিস নয়। কারন ওই ফাউন্ডেশন গান্ধী পরিবার পরিচালনা করে।’

এর আগেও অনুদান গ্রহণের জন্য বিজেপি সরকারকে কাঠগড়ায় তোলেন কংগ্রেস মুখপাত্র অভিষেক মনু সিংভি। বাংলা থেকে নির্বাচিত কংগ্রেসের রাজ্যসভার সাংসদ সিঙভি অভিযোগ করেছিলেন, একাধিক চিনা সংস্থা টাকা ঢেলেছে নরেন্দ্র মোদীর পিএম কেয়ারে । এই বর্ষীয়ান নেতা আরও বলেছেন, এই জন্যই কি চিনের প্রতি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর একটা দুর্বলতা রয়েছে। তিনি জানিয়েছেন, গত ২০ মে পর্যন্ত এই বিতর্কিত তহবিলে ৯ হাজার ৬৭৬ কোটি টাকা গ্রহণ করেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী । হুওয়াই, অপ্পো, শাওমির মতো নামী চিনা কোম্পানি পিএম কেয়ার নামক বিতর্কিত তহবিলে টাকা দিয়েছে, যা জাতীয় নিরাপত্তার ক্ষেত্রে অত্যন্ত উদ্বেগের বলে মনে করছে কংগ্রেস।

একটি বিবৃতিতে কিছু প্রশ্ন তুলেছেন বর্ষীয়ান এই কংগ্রেস নেতা

হুওয়াই-এর থেকে ৭ কোটি টাকা অনুদান প্রধানমন্ত্রী কি গ্রহণ করেছিলেন ?

এই হুওয়াই-এর সঙ্গে কি চিনের লালফৌজের প্রত্যক্ষ যোগাযোগ আছে ?

চিনা মালিকানাধীন পেটিএম কি বিতর্কিত এই তহবিলে ১০০ কোটি টাকা দান করেছিল ?

চিনের কোম্পানি শাওমি কি প্রধানমন্ত্রী কেয়ার ফান্ডে ১৫ কোটি টাকা অনুদান দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে ?

আর এক চিনা সংস্থা অপ্পো কি এই তহবিলে ১ কোটি টাকা দান করেছে ?

এটিকে ব্যক্তিগত তহবিল বলে কটাক্ষ করেছে এবং সেইসঙ্গে অডিট এবং তথ্য জানার অধিকার আইনের বাইরে রাখায় পিএম কেয়ারের স্বচ্ছতা নিয়েও প্রশ্ন তুলে দিয়েছে কংগ্রেস দল।

গালওয়ান উপত্যকায় সংঘাতের পর থেকেই প্রধানমন্ত্রীকে নিশানা করা শুরু করে কংগ্রেস । এছাড়া সর্বদলীয় বৈঠকে প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য ‘কেউ আমাদের দেশের সীমানায় ঢোকেনি, আমাদের ভূখণ্ড দখল করে কেউ বসেও নেই’ মন্তব্য নিয়েও সমালোচনা করেছেন কংগ্রেস নেতারা । পাল্টা বিবৃতিতে বিজেপি বলতে শুরু করে, কংগ্রেস আসলে ইসলামাবাদ আর বেজিংকে উৎসাহ দিতে এসব কথা বলছে।

তবে চিন-ভারত সংঘাত যত তীব্র হচ্ছে কংগ্রেস-বিজেপির আক্রমণ পাল্টা আক্রমণের সুরও চড়ছে হু হু করে। প্রধানমন্ত্রী কেয়ার ফান্ডে চিনা অনুদান নিয়ে প্রশ্ন তুলে তার থকে রাজনৈতিক সুবিধা কংগ্রেস ঘরে তুলতে পারবে কিনা, তা এখন সময় বলবে। তবে চিনা পণ্য বয়কটের চলতি হাওয়া বিষয়টিতে নতুন মাত্রা যোগ করেছে বলে মত রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের।

আরও পড়ুন – পতঞ্জলির ‘করোনিল’ প্রকাশের কিছুক্ষন পরই, এর বিজ্ঞাপন বন্ধের নির্দেশ কেন্দ্রের

তথ্যসূত্রঃ এই সময়

ছবি – ওয়ান ইন্ডিয়া

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *