আসল নাম আর্নেস্ত গুয়েরা। জন্ম ১৯২৮ সালের ১৪ ই জুন আর্জেন্টিনার রোসারিও, সান্তা ফে প্রদেশে। যিনি আজও অমর কিউবা লন্ডনের দেওয়ালগুলিতে। আজ তিনি নেই, তবুও তাঁর শুরু করা বিপ্লব এবং ধারনাগুলি রয়ে গেছে মানুষের মনে।

‘চে’ একজন সাধারণ দরিদ্র মানুষ হওয়া সত্ত্বেও কোনও মহান ব্যক্তির চেয়ে কম ছিলেন না। পৃথিবীতে এমন অনেক দেশ রয়েছে যেখানে চে গুয়েরাকে ‘ঈশ্বর’ বলে পূজা করা হয়। চে সম্পর্কে যা কিছু লেখা আছে তা কম, তবে আজ তাঁর জন্মদিন এবং এই বিশেষ উপলক্ষে আমরা আপনাকে বলব কেন পুরো বিশ্বে এই মহান বিপ্লবী আজও সমান জনপ্রিয়।

চে মারা যান ৯ ই অক্টোবর ১৯৬৭ সালে, তখন তার বয়স ছিল মাত্র ৩৯ বছর। কিন্তু মৃত্যুর এত বছর পরেও তার ধারণা কেউ মেরে ফেলতে পারেনি।আজও এই মহান বিপ্লবীর ধারণা মানুষের হৃদয়ে বাস করে। মৃত্যুর আগে চে আরও বলেছিলেন, ‘আপনি একজন ব্যক্তিকে হত্যা করছেন, তবে আপনি তার চিন্তাভাবনাগুলি হত্যা করতে পারবেন না’। যার ধারণা মানুষের জীবন বদলে দিয়েছে।

বিশ্বে এমন অনেক মানুষ আছেন যারা চে গুয়েরার ধারণাগুলির দ্বারা অনুপ্রাণিত হয়ে তাঁর মতো হতে চান। ভারতীয় কেন্দ্রীয় বিশ্ববিদ্যালয় জেএনইউয়ের দেয়াল থেকে শুরু করে এর অধ্যাপক ও শিক্ষার্থীদের পর্যন্ত চে-এর চিন্তাভাবনা এবং তাকে অনুসরণ করতে দেখা যাবে। চে-এর জনপ্রিয়তা থেকে আপনি বুঝতে পারবেন যে কোনও দেশের শিক্ষার্থীদের থেকে, তারা চে-এর মতামত পড়ে এবং তাকে অনুসরণ করে। একসময় আমেরিকার বৃহত্তম শত্রু বলা হত চে-কে, আজ তাঁদের চোখে চে একজন মহান বিপ্লবী এবং বহু মানুষের চোখে নায়ক।

চে একাধারে যেমন একজন আর্জেন্টাইন মার্কসবাদী বিপ্লবী, চিকিত্সক, লেখক, গেরিলা নেতা, কূটনীতিক এবং সামরিক তাত্ত্বিক অন্যদিকে কিউবা বিপ্লবের একজন প্রধান ব্যক্তিত্বও।

চে চাইলে আর্জেন্টিনার রাজধানী বুয়েনস আইরেসে ডাক্তার হওয়ার পরে আরামে তাঁর জীবন কাটাতে পারতেন, তবুও তিনি বিপ্লবের পথ বেছে নিয়েছিলেন। কলেজ থেকেই চে, তার চারপাশের দারিদ্র্য এবং শোষণ দেখে মার্কসবাদের প্রতি বিশেষ টান অনুভব করেন। শুধু তাই নয়, তিনি নিজের মোটরসাইকেলের সাহায্যে লাতিন আমেরিকার দেশগুলি ভ্রমণ করেছিলেন। যেখানে তিনি খুব কাছ থেকে সেখানকার মানুষের দারিদ্র্যতা অনুভব করেছিলেন। চে একটি ডায়েরিও লিখেছিলেন তাঁর এই যাত্রার সম্পর্কে, যা মৃত্যুর পরে ‘দ্য মোটরসাইকেল ডায়েরি’ হিসাবে ছাপা হয়েছিল। ২০০৪ সালে এটা নিয়ে ‘দ্য মোটরসাইকেল ডায়েরি’ নামে একটি চলচ্চিত্রও নির্মিত হয়েছিল।

চে কে কিউবার জনকও বলা হয় কারণ চে তিনিই ফিদেল কাস্ত্রোর সঙ্গে একসাথে গেরিলা যোদ্ধাদের নিয়ে সেনাবাহিনী গঠন করেছিলেন এবং স্বৈরাচারী নায়ক ফুগেন্সিও বাতিস্তার শাসনকে উৎখাত করে কিউবা স্বাধীন করেছিলেন। এরপর ফিদেল কাস্ত্রো স্বাধীন কিউবার প্রথম প্রধানমন্ত্রী হয়েছিলেন এবং চে গুয়েরাকে গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রকের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল। কিউবায় প্রায় ১ বছর প্রধানমন্ত্রী হিসাবে থাকার পর ফিদেল কাস্ত্রো রাষ্ট্রপতি হন এবং ২০০৮ সালে তিনি পদত্যাগ করেন।

চে গুয়েভারা ১৯৬৭ সালের ৮ ই অক্টোবর বলিভিয়া থেকে গ্রেপ্তার হন, এবং গ্রেপ্তারের পরের দিনই তাঁকে হত্যা করা হয়েছিল। তখন তাঁর বয়স ছিল মাত্র ৩৯ বছর। শোনা যায় তাকে গ্রেপ্তারের পরে, বলিভিয়ার সরকার তাঁর উভয় হাত কেটে তাঁর মৃতদেহ একটি অজানা স্থানে পুঁতে দিয়েছিল।
তথ্যসূত্রঃ এনডিটিভি, উইকিপিডিয়া
ছবিসুত্রঃ ইন্ডিপেন্ডেন্ট

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *