৪ ঠা জুলাই, আজ স্বামী বিবেকান্দের তিরোধান দিবস । ১২ ই জানুয়ারী, ১৮৬৩ সালে কলকাতার এক উচ্চবিত্ত বাঙালি কায়স্থ পরিবারে জন্মগ্রহণ করেছিলেন তিনি। ছোট বেলার নাম নরেন্দ্রনাথ দত্ত। সন্ন্যাস ধর্মগ্রহণের পর তিনি হয়ে উঠলেন স্বামী বিবেকানন্দ । ১৯০২ সালের 4 জুলাই মাত্র ৩৯ বছর বয়সে মারা যান তিনি।

আধ্যাত্মিকতার দিকে নরেন্দ্রনাথের আগ্রহ ছিল ছেলেবেলা থেকেই । তিনি প্রচুর বই পড়তেন।  দর্শন, ধর্ম, ইতিহাস, সমাজবিজ্ঞান, শিল্পকলা ও সাহিত্য বিষয়ক বই পড়ায় ছিল তার বিশেষ আগ্রহ । এছাড়াও  বেদ, উপনিষদ্‌, ভাগবদগীতা, রামায়ণ, মহাভারত, পুরাণ প্রভৃতি হিন্দু ধর্মগ্রন্থ পাঠেও তার আগ্রহ ছিল। তিনি নিয়মিত শরীরচর্চা, খেলাধুলো ও সমাজসেবামূলক কাজকর্মে অংশ নিতেন।

স্বামী বিবেকান্দে ছিলেন ভারতে হিন্দু ধর্মের পুনরুজ্জীবনের অন্যতম প্রধান ব্যক্তিত্ব । ঔপনিবেশিক শাসকদের বিরুদ্ধে লড়াই করার জন্য জনগণকে একত্রিত করার মধ্যে হিন্দু দর্শনের বিষয়ে তাঁর শিক্ষাগুলি ভারতীয় জাতীয়তাবাদী আন্দোলনের কেন্দ্রবিন্দু ছিল।

হিন্দু ধর্ম সম্পর্কে তাঁর নীতি ও পাঠ কেবল জাতীয় ক্ষেত্রে সীমাবদ্ধ নয়। প্রথম বিশ্ব ধর্মমহাসভা ১৮৯৩ খ্রিষ্টাব্দের ১১ সেপ্টেম্বর শিকাগোয় অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে তিনি ভারত এবং হিন্দু ধর্মের প্রতিনিধিত্ব করেন। হিন্দু দর্শন সম্পর্কে শিক্ষা দেওয়া ও শিক্ষিত করার প্রতি তাঁর অবদানের কারণেই দেশপ্রেমিক সাধকের মর্যাদায় ভূষিত করা হয়েছিল তাঁকে । পাশাপাশি তিনি রামকৃষ্ণ মঠ এবং রামকৃষ্ণ মিশনও প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। এই উভয় সংস্থা ভারত ও বিদেশে জনহিতকর এবং শিক্ষামূলক কাজে অবদান রেখে চলেছে এখনও। বর্তমানে, বিশ্বজুড়ে রামকৃষ্ণ মঠ এবং রামকৃষ্ণ মিশনের ২১৪ টি কেন্দ্র রয়েছে।

তাঁর মৃত্যুবার্ষিকীতে আমরা তাঁর শিক্ষা এবং পাঠগুলির একটি তালিকা একত্রিত করেছি যা অবশ্যই আপনাকে স্বপ্ন দেখতে, ভালবাসা এবং  সুখ বিলিয়ে দিতে এবং কখনও হাল না ছাড়ার জন্য উৎসাহিত করবে।

স্বামী বিবেকানন্দের শিক্ষা এবং পাঠ আপনাকে জীবনের সমস্ত সাফল্য অর্জন করতে নিজেকে বিশ্বাস করতে উৎসাহিত করতে পারে।

এখানে তার বিখ্যাত কিছু উক্তি দেওয়া হল

  • প্রত্যেক আত্মাই সম্ভাব্যরূপে ঐশ্বরিক/দেবসুলভ।
  • লক্ষ্য হচ্ছে বাহ্যিক ও অভ্যন্তরীণ প্রকৃতি নিয়ন্ত্রণের দ্বারা এ দেবত্বকে সুষ্পষ্টভাবে দেখানো।
  • কর্ম, বা পূজা, বা মন নিয়ন্ত্রণ, বা দর্শন – একটির দ্বারা, বা অধিকের দ্বারা, বা এ সকলগুলির দ্বারা এটি কর – এবং মুক্ত হ্‌ও।
  • এটি হচ্ছে ধর্মের সমগ্রতা। মতবাদ, বা গোঁড়া মতবাদ, বা ধর্মীয় আচার, বা গ্রন্থ, বা মন্দির, বা মূর্তি হচ্ছে গৌণ খুঁটিনাটি বিষয় ছাড়া কিছুই নয়।
  • যতক্ষণ পর্যন্ত আমার দেশের একটি কুকুরও ক্ষুধার্ত, আমার সমগ্র ধর্মকে একে খাওয়াতে হবে এবং এর সেবা করতে হবে, তা না করে অন্য যা-ই করা হোক-না-কেন তার সবই অধার্মিক।
  • জেগে ওঠো, সচেতন হও এবং লক্ষ্যে না-পৌঁছানো পর্যন্ত থেমো না।
  • শিক্ষা হচ্ছে মানুষের মধ্যে ইতোমধ্যে থাকা উৎকর্ষের প্রকাশ।
  • ধর্ম হচ্ছে মানুষের মধ্যে ইতোমধ্যে থাকা দেবত্বের প্রকাশ।
  • মানুষের সেবা করা হচ্ছে ঈশ্বরের সেবা করা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *