নিম একটি ওষধিগুণ সম্পন্ন, চির হরিত, বহু-বর্ষজীবি বৃক্ষ। নিম (Neem) গাছের ডাল, পাতা— সবই কাজে লাগে। যেমন, নিমের কাঠ খুব শক্ত। নিম কাঠে উইপোকা বাসা বাঁধে না। ফলে নিম (Neem) কাঠে কখনও ঘুণ ধরে না। শুধু উইপোকাই নয়, নিম গাছে কোনও পোকাই বাসা বাঁধে না। শরীর থেকে সৌন্দর্য, সবেতেই উপকারী নিমপাতা। গরম ভাতে নিমবেগুনের স্বাদই আলাদা। শুধু তাই নয়, প্রতিদিন খালি পেটে যদি পারেন একমুঠো নিমপাতা চিবিয়ে বা নিমপাতার জুস তাহলে উপকার পাবেন বহুবিধ। আর্য়ুবেদ তো তাই বলে। ইমিউনিটি সিস্টেম জোরদার থেকে ত্বকের দাগ ছোপ দূর করা সবই করে নিমপাতা। কেটে গেলে বা পুড়ে গেলে ক্ষত স্থানে নিমপাতার রস লাগান; গায়ের দুর্গন্ধ এবং ঘামের দুর্গন্ধ দূর করতে নিমপাতার রস খুবই কার্যকরী। শীত আসতে চলেছে। ঋতু বদলের সময়টায় অসুখ ছড়ায় সবচেয়ে বেশি। আর তাই এই সময়ে শরীরের খেয়াল রাখা খুব জরুরি।

 

  • এক কাপ নিমপাতায় ক্যালোরি থাকে ৩৫ গ্রাম। ফলে প্রতিদিন এককাপ নিমপাতা খেলে ব্লাড সুগার থাকবে এক্কেবারে নিয়ন্ত্রণে। এছাড়াও যাদের সুগার নেই, তারাও প্রতিদিন
  • দাঁত ও মাড়ির যে কোনও রকম ইনফেকশন থেকে দূরে রাখে। যে কারণে নিমের দাঁতন ব্যবহার করা হয়।
  • চুল পড়া থেকে খুসকির সমস্যা যে কোনও কিছুতে নিম শ্যাম্পু ব্যবহার করুন। বা শ্যাম্পুর পর নিমপাতা দেওয়া জল ব্যবহার করুন।
  • গ্যাস বা বদহজমের দীর্ঘদিনের সমস্যায় নিম খুব ভালো কাজ দেয়।
  • এই সময় মশার প্রকোপ বাড়ে। তাই বাড়িতে নিম তেল ব্যবহারের সঙ্গে সঙ্গে প্রতিদিন নিমপাতা খান। মশা কম কামড়াবে। ম্যালেরিয়া থেকে দূরে থাকবেন।
  • কেটে বা ছড়ে গেলে বা পোকার কামড় খেলে ক্ষতস্থানে নিমপাতা বাটা লাগিয়ে নিন। ইনফেকশন হবে না। ক্ষত তাড়াতাড়ি শুকোবে।
  • খুশকির সমস্যা থাকলে নিমপাতা জলে সেদ্ধ করুন। জলের রং সবুজ হলে নামিয়ে ঠান্ডা করুন। শ্যাম্পু করার পরে ওই জল দিয়ে চুল ধুয়ে নিন।
  • চোখ জ্বালা করলে বা চোখ লাল হয়ে গেলে নিমপাতা জলে সেদ্ধ করুন। জল ঠান্ডা হলে, তাই দিয়ে চোখ ধুলে উপকার পাবেন।
  • ব্রণ বা মুখে কালো ছোপ থাকলে নিমপাতা বাটা লাগিয়ে নিন। ত্বকে বিভিন্ন ধরনের রোগ হয়। কাঁচা হলুদ বাটার সঙ্গে নিমপাতা বাটা মিশিয়ে ব্যবহার করুন।
  • নিমপাতা রোদে শুকিয়ে ভাল করে গুঁড়ো করে রেখে দিতে পারলে পরবর্তীকালে তা ফেস প্যাক হিসেবে ব্যবহার করা যেতে পারে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *