প্রধানমন্ত্রী বলেছিলেন, ‘‘জান হ্যায় তো জাহান হ্যায়।’’ সত্যিই, প্রাণই যদি না থাকে, তা হলে আর এই বিশ্ব-দেশ-রাজ্য দিয়ে হবে কী? ঝড়ের বেগে ছুটে চলা মানবসভ্যতা যেন আচমকাই থেমে গিয়েছে।

প্রান থাকলেও সত্যিই কি বেঁচে থাকা যাবে?

মৃত্যুর হাতছানিতে আপাতত এই প্রশ্ন হয়তো অন্তরালে। সত্যিই যদি করোনাভাইরাস-যুদ্ধে জয়ী হয় মানবজাতি, তার পরেও কি স্বস্তি দেবে অর্থনীতি? জিডিপি, জিএসটি, আর্থিক বৃদ্ধি, রাজকোষ ঘাটতি, উৎপাদন— এ সব জটিল তত্ত্বকথার কচকচানিতে না গিয়ে নিজের পকেটের দিকে তাকালেই অশনিসঙ্কেতটা স্পষ্ট।হোটেল, রেস্তরাঁ, শপিং মল, কল-কারখানা, ট্রেন, বাস, পর্যটন— সব দরজায় তালা ঝুলছে। কাজ হারানোর আতঙ্কে সবাই।

করোনা মুক্ত পৃথিবী হয়তো আসবে। নির্মাণ, পর্যটন, উৎপাদন ও পরিবহণের মতো শিল্পক্ষেত্রে যে কোটি কোটি অসংগঠিত শ্রমিক কাজ করেন, তাঁদের একটা বিরাট অংশ কাজ হারাতে পারেন। তাঁরা কি আর কাজ ফিরে পাবেন? পেলেও কত দিন পরে? কত দিন বিনা রোজগারে নিজের, সংসারের নুনভাত জোগাড় করতে পারবেন বা করার মতো সঞ্চয় এদের আদৌ আছে কি?

সামাজিক দূরত্বের তত্ত্ব, করোনা বিদায় নেওয়ার পরেও মানুষে মানুষে সেই অবিশ্বাসের বাতাবরণ কি পাল্টাবে? ঘেঁষাঘেঁষি করে ট্রেনে-বাসে যাতায়াতের ছবি কি ফিরবে? আপাতত দূরঅস্ত এই সব প্রশ্নের উত্তর।

বিশেষজ্ঞদের মতে, করোনার ঝড়ে দেউলিয়া হয়ে যাবে বহু সংস্থা। সবচেয়ে বেশি লোকসানের মুখে পড়বে বিমান পরিবহণ ও পর্যটন ক্ষেত্র। ছোট ও মাঝারি শিল্পের ক্ষেত্রে বয়ে আনবে ভয়াবহ আর্থিক সঙ্কট। উদ্বেগের আরও বড় কারণ, এই ছোট শিল্পক্ষেত্রেই সবচেয়ে বেশি অসংগঠিত শ্রমিক। আবার সারা বিশ্বের মধ্যে অসংগঠিত ক্ষেত্রের শ্রমিকের হার সবচেয়ে বেশি ভারতে। বিরাট অংশ দিনমজুর। সবচেয়ে ভয়াবহ পরিস্থিতির সঙ্গে যুঝতে হবে এই দিন আনা, দিন খাওয়া মানুষগুলোকেই।

আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থা -এর একটি সমীক্ষায় উঠে এসেছে ভারতবর্ষে ৪০ কোটি মানুষ চলে যেতে পারেন দারিদ্রসীমার নীচে। শুধু তাই নয়, কত দিনে এই ধাক্কা কাটিয়ে ওঠা যাবে, তারও কোনও দিক্‌নির্দেশ নেই। আসলে এখনও বুঝেই ওঠা যায়নি, এটাই কি ডুবন্ত অর্থনীতির তলদেশ, নাকি মন্দার স্রোত সবে শুরু হয়েছে?

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *